নিরাপত্তায় হৃদপিণ্ড

হৃদপিন্ড ছুঁয়ে থাকে
বিধ্বংসি গ্রেনেড নিরাপত্তা সুখে
আনন্দমেলায় মন

তাঁবু ফেলে বসে কিসের উদ্দেশে
পাহারা দেয় হৃদপিন্ড-মন
হিংস্র সেনানীর সামাজিক নখ
মানুষ নামের জীব বিলুপ্ত এ গ্রহে

তাই কি হৃদপিন্ড আজ
পাহারা দেয় মানুষের নখ !

চেতনাহীন-সভ্যতা চেয়ে থাকে
প্রশংসিত পচনের দিকে
স্বপ্নে প্রেমের নেশা

স্বপ্ন নিয়ন্ত্রিত
নিদ্রায় দ্বিধারা আজ,
প্রতিবাদী মুখ সভ্যতা বিমুখ
হৃদপিন্ডে ধরা পরে আবহাওয়া সংকেত
হৃদপিন্ড ছুঁয়ে আছে
বিধ্বংসি গ্রেনেড ।


মিলি
মুখার্জী

তুমি অনেক কিছুই পারো


তুমি পারো , তোমার ক্ষমতা আছে

জীবনপ্রবাহ বন্ধ ক’রে দিতে
ছিঁড়ে ফেলে সব কটা তন্ত্রী শরীরের
কারন দু’টি ভয়ংকর শাণিত
ত্রিভুজ

তোমার হাতের মধ্যে লুকানো থাকে 
সযত্নে অতি সংগোপনে
দুধের বোতল ভাতের হাঁড়ি সাংবাদিকের কলম
সবই তোমার দখলে

এমন কি আমার শাড়ির ভাঁজগুলোও
তোমার নিয়ন্ত্রনে কমে বাড়ে  রং পাল্টায়
শুধু বঞ্চিত মানুষের মিছিলে হাটাঁ

সেটা একান্তই আমার

তোমার উন্মুক্ত বিশ্বায়ন 

আমায় অনেক দিয়েছে
নির্যাতিত মানুষগুলোর জন্যে
দরদে তাঁবু গেড়েছ
বিভিন্ন দানে তুমি কর্নকেও ছাপিয়ে যাও
সেই দানে তুষ্ট মানুষে  ভরে যাচ্ছে
তোমার মানুষখানা ।।


সভ্যতাকে কলঙ্কিত করার আগে

আজ আমি একবার
তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই

যারা তোমার বিরুদ্ধতায় প্রান দিয়েছে
তাদের জন্য যে ফুল আনো

 যে মালী সে ফুল ফুটালো  
তার অনুমতি নিয়েছ কি তুমি রাজা ?
আজ আমার সব মুর্তি ভাঁড়ের মত লাগে

কান্না হাসি-রাগ সব আজ একই রূপে প্রকাশ পাই
কিছুই তো অবশিষ্ট নেই

চোখে পড়ে মানুষের নির্মম স্বপ্নের সমাধি 
ফ্যাকাসে সূর্যের নিচে অসহায় আক্রোশে

জীবন যাপন করে যারা
অনেক কিছু ইচ্ছে  তাদের -না পারাও অনেক

মুষ্টিবদ্ধ হাতেরা আজ অপ্রতিরোধ্য তাই


মিলি মুখার্জী
২১/০৭/২০১৫

কবিতার ভ্রূন

প্রতিকূল এবং অনুকূল পরিবেশে
সদাবাহার ফুলের মতো ক্রমাগত
জন্মানো এইসব কবিতারা
আমাদের অনুভূতির ভ্রূণকে
একটি পূর্ণ মানবিক অবয়বে
সেইসব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই
যারা কবিতাকে কেবলমাত্র কালির ছিটে ভেবে

যেন পিঠের ওপর ছিটিয়ে না দেয় !

বরং যখনই কবিতার একটি শিরা হাতে আসবে
তখন তাকে শুধুমাত্র না পড়ে
আত্মস্থ করবে এবং বুঝতে পারবে যে

এটা যতই সাবলীল ভাবে বোনা হোক

এর ভিতরে একটি গিঁট খুব দক্ষতার
সাথে লুকানো আছে যেখানে
অনেক সমস্যা বা চিরপরিচিত কোন
আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয় !
এই গিঁটকে স্পর্শ করে মানুষের
উপলব্ধি হবেই যে এই কালির রঙ
এতো গাঢ় হলো কি করে !

এই কালি মানুষের চোখের জলের
প্লাজমা হয়ে নিজের তৎকালীন বহমানতাকে
রুদ্ধ করে দিয়ে জীবনের প্রত্যঞ্চায় টান মেরেছে !

কবিতাকে পাথরের মূর্তির মতো
নির্লিপ্ত থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার
যার বহু চোখের হনন , অঙ্গভঙ্গি ও স্পর্শকে
উপেক্ষা করার দক্ষতা কেবলমাত্র এই জন্য থাকে
কারণ সে তার শেষ ক্রেতাকে খুঁজে ফেরে

সর্বোপরি কবিতাকেও অনুপ্রবেশকারীর সাথে
মিশে গিয়ে নবজীবন পেতে হয়

আমাদের কবিতার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে
উপস্থাপন করার সাহস দেখাতেই হবে
যাতে সমস্ত বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে
নিজের হাতের তালুতে কবিতার ভ্রূনকে
বারবার বিকশিত করতে পারি !

মিলি মুখার্জী

তোমার উদ্দেশ্যে

অনিকেত ,
বাসন্তী রঙ হৃদয় কখন
লাল হয়েছে টের পাইনি
বাসন্তী পলাশ হয়ত এমনি করেই
লাল পলাশে বদলে যায়
আসলে বদলটাই নিয়ম ।।

নিয়ম ভাঙার স্বপ্ন ভরা বুকে
পলাশ গাছেরা প্রেমের শরীরে
রঙ চিনে ছবি আঁকে
সব কথা তোমাকে জানানোর দায় নিয়ে
আজও ঠিকানাবিহীন চিঠিগুলো
আকাশ নদী মাঠ পেরোতে থাকে !

জীবন যে রকম

আমাকে পেরিয়ে যাও
কাল পথ ধরে
ঠিকানার সন্ধানে
মিলেছ কি শেষে ?
দেবতা-চোখের আলো
ক্রমে গেল নিভে
পাইকারি কথামালা
তাও গেল ভেসে
স্মৃতি তো আমারও আছে
না পাওয়া অনেক
জীবনে জড়ানো যত
সম্পর্কের সেঁক
প্রহসন পাওয়া গুলো
চেয়ে থাকে মুখে
হৃদয় পেয়ালা ভরা
নিখাদ বিষাদ ।

পাহাড় আঁকড়ে-ধরা
শেকড় দেখেছ ?
সামনে যার পরে থাকে
কালো মৃত্যূ খাদ
জীবন তেমনি করে
সাহসে জড়িয়ে
লাফিয়ে পেরিয়ে যায়
মৃত্যুর ফাঁদ
দৃষ্টিগ্রাহ্য যা কিছু তা
বদল ঘটায়
এটাই নাটকের শাশ্বত রঙ
ইতিহাস চিরকালই
শৃঙ্খলিত হয়ে
রাজার রঙেতে রেঙে
সেজে থাকে সঙ ।

পৃথিবীতে লড়াই ও আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই এই সমাজ বদলায় শুধু আইন দিয়ে বদলানো সম্ভব নয় । এই শতাব্দী নাকি নারী মুক্তির শতাব্দী ,তাই তো আজও নারী আর মুক্তি…. নদীর দুই তীর , যাদের কখনোই মিলন হয় না । আজও ঘর পুরুষের উপনিবেশ যেখানে সে বাইরের হস্তক্ষেপ মানতে পারেনা

তবুও  দ্রৌপদী

সময় বদলে গেছে অনেক তবু
দ্রৌপদী একই ভাবে প্রাসঙ্গিক
অবুঝ কুন্তি আজও
আঁধারের জীব
জানেনা নারীর হাতেই
নারীর উত্থান ।
ধর্ম ভেকে যুদ্ধ বাঁধা
জিতে যায় রাম
রাবন মুক্তি পায়
বিভীষন ম্লান
সত্য আঁকড়ে পড়ে থাকা
মূর্খ নারী সীতা
বেছে নেয় বনবাস
আর অগ্নী-পরীক্ষা ।

মিলি মুখার্জী

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *