আজকাল তোমার নীরবতা , সহ্য করতে পারিনা অনিকেত
বিপন্ন মেঘের শহরে , দ্যাখো, ঝিমিয়ে পড়েছে ভালোবাসার বৃষ্টি ।
তুমি শিখেছ বুকের মাঝে আলতোপথে নীরবে মানব শিকার করা
ভালোবেসে ধ্বংস করেছো হেসে উঠা প্রখর রোদ্দুর আমার পৃথিবীতে
মানবিক চোখে জেগে ওঠে বার বার লুঠ হয়ে যাওয়া ব্যাথিত রোদন ;
শুনতে পাবে জমাট আঁধারে, আমার অগণিত নিদ্রারহিত জাগরণ ।
গত শতাব্দীর মৃত্যুযন্ত্রণায় ভালোবাসার কাতর কান্না আমাকে শেখাও।
অপার্থিব আলিঙ্গনের, নষ্ট অনুভবের মিথ্যা আকাশটার পানে চেয়ে বলি
এই প্রেম এই তুমি , তোমার নখ দাঁত প্রতারনা সব আমার অনিকেত ।
এখন তুমিই বলো তোমাকে ছাড়া কিভাবে পার হবে বাকী জীবন ?
বার বার পুরনো সিন্দুকের দিকে তাকিয়ে থাকা আর ভালো লাগে না
আমার জন্য তোমার কোনো লড়াই নেই , কোনো মিছিল বা শ্লোগান
কেন অনিকেত ? আমি কি তোমার দাবির তালিকায় খুবই বেমানান ?
এখনো আমি নিখোঁজ,আমি জানিনা বিশালতা কি, শুধু বুঝি বিশাল তুমি,
আঠারো শতাব্দীর অন্ধকারে তোমার ভালোবাসা কি মৌলবাদী হয়ে গেছে ?
ভীতি-বিবর্জিত নষ্ট সময়ের দাবি — পথে এবার নামার , পথে পথ চেনার
শাসকের শোষণে ভেসে থাকা সংগ্রামী সংসার , আলো নিভেছে বাস্তুহারার বুকে
এস অনিকেত শাসকের অন্তর্বাস খুলে তাকে জীবনের নগ্নতার বিভৎসতা বোঝায় !

একটা জীবন দেয়া হোক সম্ভাবনাময়


গতানুগতিকতার স্রোত থেকে
নিজেকে আলাদা করা
খুব মুস্কিল ।
বড় একা হয়ে যেতে হয়
চিন্তাজগতের আশপাশে মানুষ
খুঁজে পাইনা , পাই সামগ্রিক সত্তার বিরুদ্ধে;
এক ভয়াবহ প্রতিবাদী দৃশ্যপট।
জোড়া তালি ভাবনা আর কতোকাল ?
জীবন দিয়ে ছন্দ মেলাব, স্বপ্ন
ছিল আমার
আমার জীবন, আমার প্রেমের ভূমিকা
স্পর্দ্ধা নিয়ে প্রবল বাঁচার
হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে আছে মুক্তাঞ্চল ,
এভাবেই বুঝি অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায়
আপোষ – রফা দফায় দফায়
নিয়ম করে সেলাম ঠোকা ।
হে সময়,আমার ফেলে আসা প্রেম তুমি নাও
শুধু আমি নিখোঁজ হলে
খুঁজো না আমায়
মুক্তপক্ষ মেঘেদের মাঝে
আকাশগঙ্গার স্রোত আমার হৃদয়ে ।
পৃথিবীতে যার কোনো যথারীতি
পরিসংখ্যান নেই
তা হোলো মানুষের
মৃতদেহ ,বড়ই সস্তা
তীব্র বাসনা আজ
মানুষকে একটা জীবন দেয়া হোক সম্ভাবনাময় ।


মিলি মুখার্জী…
০৫/০৮/২০১৫

মৃত্যুর যন্ত্রনা

মৃত্যু আমাকে হৃদয়
তাড়িত দুর্ভোগে
ফেলেছে আজ আবার ।
সম্পর্কের সন্ত্রাসে
আমি খানখান
হয়ে ভাঙছি ,
কিন্তু এমন তো কথা ছিল না !
বিরুদ্ধতায় নিজেই
নিজের সামনে
শক্ত লড়াই , ঘোষিত বিজেতা আমিই ।
তবুও, হুঁশিয়ারি দিই
হৃদয় কে আজ ।মৃত্যূহীন
স্বপ্ন হয় না , জীবন
তো কঠিন বাস্তব ।


মুখোমুখি অনিকেত

অনিকেত , পর্বতের
আকর্ষন কখনো তোমাকে
অদম্য নেশায় বিপদের দিকে
টেনে নিয়ে গেছে ?
যেমন করে ঠিক তুমি
উৎসব লোভী মানুষদের
টেনে নিয়ে যাও
এক মোহগ্রস্ত ,মৃত্যু উপত্যকায় !
হরিদ্রাভ সুখে, তুমি যখন
ঘুমিয়ে থাক ,তখন পর্বতের
মাথায় ওই মানুষগুলোর
দীর্ঘশ্বাসেরা অতিক্রম করে
দুর্গম পথ ,সাক্ষী থাকে আকাশের তারা
বড় যন্ত্রনায় সক্রেটিসের
যুক্তির ধারা পালটে যায়
ভুল মতবাদে আনিকেত !
নিশ্চিত অধিকারে মানব জীবন ।
শহরে কোনো লাশ ঘর নেই ।
প্রসন্ন প্রেমে সব কটি হৃদয় দোলে
ইচ্ছে হাতের দোলায় ।
রাজাদের যাওয়া-আসা নেই ।
আহা এমন যদি হয় , তুমি জেনো
অনিকেত নিশ্চয় , ঐ সূর্য তোমার
আজ্ঞাবহ হলে আমিও হব তোমার অনুগামী ।


চলে যাওয়া

   

আজ আমার মার চলে যাওয়ার দিন
তুমি চলে গেছ ,বড় অসময়ে  
অনেক বছর আগে  
কেটে গেছে ঠিক নিজের নিয়মে
কত ঋতু,কত দিনরাত
শুধু বুকের মধ্যে থমকে আছে
সেই সকালের আকাল 

আঁচলের মিষ্টি গন্ধ স্মৃতীতে
হে আমার জন্মদাত্রী,
বড়  যন্ত্রণাকাতর
স্মৃতিগর্ভ থেকে জন্ম এই কবিতার
মায়েরা এ ভাবেই চলে যায়
সকালগুলো শুন্য করে ।
তোমার বুকের ওমে
আমার জীবন জারিত হয়েছে
প্রতিক্ষনে নিশ্চিত নিরাপত্তায় ।
বড় অসময়ে তুমিচলে গেছ
এক কাক ডাকা ভোরে ,
আঁচলের মিষ্টি গন্ধ স্মৃতীতে রেখে !

শরীর বড় বালাই অনিকেত



অনিকেত , তুমি কোথায় ?
পুর্ণিমার ধ্বস নেমেছে আজ
এই রুপালী রাতে
বাঁশবন , সবুজ মাঠ চিকচিক করছে ।
আর চিকচিক করছে
নারীদেহ খাদ্য লোভী পুরুষগুলোর চোখ ।
চিরস্থায়ী ক্ষতে এখনো গন্তব্য খুঁজে
নখে শান দেয় ওরা ।
নারীর কারুকার্যময় শরীর কে
ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে
ওরা পুরুষ হতে চায় !
সময়ের নির্ঘুম ইতিহাসে
কোনো মানুষের কথা লেখা নেই
কেন বলতো অনিকেত ?
পৃথিবী জুড়ে ধ্বংসের পর ধ্বংসে
মানুষ কি আজ বিলুপ্ত প্রজাতি !
দ্বন্দ্বময় সভ্যতার গতিশীল স্রোতের ধারায়,

মানুষ কি নষ্ট হয়ে গেল !
জীবন মানে আজ , শূন্য বুকে দগ্ধজমিন,
বিশ্বায়নে ভালোবাসার প্রবল ধ্বসে
আমার শরীর তোমার হাতে
লাট্টু নাচে অনিকেত !
সূর্য নেই, আলো নেই ,মেঘ নেই,
বৃষ্টি নেই,চাঁদ নেই,শুধু রাত
আমার শরীর আর ওদের
লোভের জিভ আছে । এত বড়
পৃথিবীতে এতটুকূ অপ্রাণের অস্ত্বিত্ব
কি মানায় অনিকেত ?

আমার ভিতর ও বাহিরে 


আমাদের উত্তরসুরীর জন্য
নিরাপদ একটি পৃথিবী
রেখে যেতে পারবোনা জানি
ফ্রেমবন্দি ছবি সব
ইতিহাস হয়ে যাবে ।
বন্ধু তোমার হাতই আজ
আমার ভরসা
মনের মধ্যে খুঁজি
প্রপিতামহীর মুখের ভাঁজ
আর উষ্ণ উত্তাপ আপন জনের ।

আমার হৃদয়ের ডান বাম
সবদিক থেকে ,
কেন যে শব্দহীন এক আস্ফালন
জেগে ওঠে এ স্থবির নগরে
অসহায় ক্রোধে ।
অনিবার্য যন্ত্রনারা
নেমে আসে দৃঢ় কঠিন চিবুকে
বিধ্বস্ত জীবনের অন্ধকারে
নাগরিক পথ ধরে
মিছিল মিছিল খেলায় ।

মিলি মুখার্জী

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *