কবিতার উত্তেজনা

কোটি মানুষের কান্নার চিত্র যখন
কবিতাতে ফুটে ওঠে
চোখের জল তখন কালি হয়ে যায়
কাঁধে মাথা রাখা কান্নারত
প্রিয়
মুখও ম্লান হয়ে যায় সেই রাতে
নিজের মুখে পরা কান্নার প্রথম ভাঁজ
কবির গলায় দলা পাকানো
যন্ত্রনার তীব্রতা দুমড়ে মুচড়ে দেয়
বহু আদরের হৃদয়কে
জনসমুদ্রের লবণাক্ত স্বাদের সাথে
কবির চোখের জলের মিল ঘটে
ঠিক সেই চরম মুহুর্তে ।

সকাল-সন্ধ্যা একই আকাশ রঙ পরিবর্তন করে
এঁকে রেখে যায় তার চিহ্ন
এই চিহ্নগুলোর জন্য কবিতারা
শ্রেণী বিভক্ত হয়ে যায় এক সর্বগ্রাসী ক্ষিদে নিয়ে
চাঁদ তারা ফুল সবই খেতে চাই , বুভুক্ষু কবিতারা আমার
আকাশের তবু চেতনা হয় না

কবিতা আজ কেবল বেঁচে থাকে যন্ত্রনা কাতর
শিরা উপশিরার উত্তেজনায়
ক্ষিদে থেকে জন্ম নেওয়া অনুভুতিদের
ভিখারী উত্তেজনায় ক্ষুধার্ত রাখে যারা

সেই শক্তিদের ভালো থাকার বিরুদ্ধে

গর্জে ওঠা জেহাদি উত্তেজনায় !

সহ্য হয়ে যায়


যখন কোন মানুষ একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ

চিঠি নিয়ে পৌঁছে দেখে সব লোক চলে গেছে

দপ্তর বন্ধ হয়ে গেছে ,তখন সে কি করে !

যেমন কোন মানুষ নগরবাসিকে

আসন্ন বন্যার সতর্কবাণী দেয় কোন অজানা ভাষায়

যা কেউ বুঝতেই পারেনা ।

যেমন কোন ভিখারী পাঁচবার সেই দরজাতেই কড়া নাড়ে

যেখানে সে চারবার ভিক্ষা পেয়েছে

কিন্তু এবার তাকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে ।

যেমন কোন আহত ব্যক্তির ক্ষত থেকে রক্ত পাত হয়েই যাচ্ছে

আর সে ডাক্তারের পথ চেয়ে বসে আছে

ক্ষতের তীব্র যন্ত্রনা সহ্য করে ।

একইভাবে, আমরাও নিজেদের সাথে

খুব খারাপ কিছু ঘটে যাওয়া ঘটনা ব্যাক্ত করি

চরম উদ্যমে উচ্চ কন্ঠে ।

যখন প্রথমবার শুনি বন্ধুরা খুন হচ্ছে

তখন আমরা খুব চেঁচামেচি করি তারপর

থিতিয়ে যায় সে উত্তেজনা ।

কয়েকশ নিহত হলে হাজার হাজার খুন হলে

যখন হত্যা থামার কোন নামই নেই না

তখন সর্বত্র নীরবতার চাদরে ঢেকে যায়।

যখন অত্যাচার বৃষ্টির মতো ঝরে

তখন কেউ চিৎকার করে না যে

“এসব বন্ধ করো “।

আসলে যখন ধারাবাহিক অপরাধ সংঘটিত হয়

তখন তা গা সওয়া হয়ে যায়

যখন কোন যন্ত্রনা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে

তখন আর গোঙানি শোনা যায়না ।

বন্ধু এসো পাশে

বন্ধু , জ্যোৎস্না রাতে কাব্য করার
দিন ,আজ আর পৃথিবীতে নেই ,
চলো জ্যোৎস্না ধরে রাখি
বুকের ভিতর । ভয়ংকর কালো মেঘ
যদি আসে আঁধার করে
জ্যোৎস্না দিয়ে ধুয়ে দেব সে অন্ধকার ।
শতবর্ষী অশ্বথের শক্ত মাটিতে
চলে যাক সম্পর্কের শিকড়
সূর্যের আলো তে জারিত হোক
বন্ধুত্বের রসায়ন ,
দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ
অহংবোধ আর স্বার্থের দেয়াল গুলো
পেরোতে চাই সবার আগে
ইংলিশ চ্যানেল নয় ।
কবিতার বুকে জমা রাখলাম
বন্ধুত্বের দাবী
জীবনে জীবন মিলিয়ে দিয়ে
এস বন্ধু পাশে ।

মিলি মুখার্জী

Related Posts

One thought on “কবিতার উত্তেজনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *